জমির বেগ
বিএনপি আজ ১৭ বছর ক্ষমতার বাহিরে। ২০০৬ সালের পর দলটি আর ক্ষমতায় আসতে পারেনি। ১৯৭৫ সালের পর আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফিরতে একুশ বছর সময় লেগেছিল। নির্বাচনি তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন জমা দেয়া শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর। কিন্তু বিএনপি ভোটে অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে এখনও দেখা যাচ্ছে অনড়। ভোটারদের প্রশ্ন এই সুযোগে আবারও গোল দিয়ে দিবে না তো আওয়ামী লীগ?
কৌশলের খেলায় আওয়ামী লীগের কাছে বারবার হেরে যাচ্ছে বিএনপি। ভোটারদের প্রশ্ন ধানের শীষ আবার একই ভুল করছে না তো ভোটে না গিয়ে। সব বিষয়েই বর্তমান সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বিএনপি, কিন্তু এটাই সবচেয়ে বড় বোকামো হয়ে যাচ্ছে না তো?
এদিকে আওয়ামী লীগ চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসতো প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ইতোমধ্যে প্রার্থীরা নানান ভাবে শুরু করেছেন নির্বাচনি প্রচারণা। নির্বাচনের মাঠ দখল করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালের তুলনায় এবার আওয়ামী লীগ অনেকটা স্বস্তিতে আছেন। টানা ক্ষমতায় থাকার জন্য একটা পাকা জায়গা তৈরি করেছে বর্তমান সরকার। বিএনপির অবরোধ আন্দোলন করে যে ভুলটা করল তাতে লাভ হয়েছে আওয়ামী লীগের। ক্ষমতাসীনরা তাই আত্মবিশ্বাস পেয়ে গেছে।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি আওয়ামী লীগকে বাহিরে রেখে একটি নির্বাচন করেছিল, কিন্তু টিকতে পারেনি। আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে বিএনপিকে বাধ্য করেছিল। আওয়ামী লীগ যেটা পেরেছিল, বিএনপি সেটা পারেনি। গত এক যুগে বিএনপি আন্দোলনের নানান চেষ্টা করছে। এবারও তাই করছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের কৌশলের কাছে পেরে উঠছে না বিএনপি। দলটির শক্তি ক্ষয় হয়েছে ও হচ্ছে। মামলার সংখ্যা বেড়েছে, বেড়েই চলেছে। আন্দোলন করে একটি দাবিও আদায় করতে পারেনি বিএনপি। সেটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি হোক কিংবা খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দাবি।
২০০৯ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ তাদের উন্নয়ন তত্ত্ব সামনে নিয়ে আসে। একের পর এক মেগা প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, নির্বাচনকে সামনে রেখেই অবশ্যই। উন্নয়ন প্রকল্পের দুর্নীতির কথা ভুলছে দেশটির আমজনতা, ভোট বাক্সে তার কিছু হেরফের হবে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন বলেন, গেল ১৫ বছরে দেশের যে উন্নয়ন হয়েছে তার প্রতিফলন ঘটবে এবারের নির্বাচনে। দেশের মানুষ ধারাবাহিক সরকারের সুবিধা বুঝতে পারছে। এটি অব্যাহত থাকলে আগামী ৫ বছরে দেশ আরও উন্নয়নের পথে আরও এগিয়ে যাবে। আগুন সন্ত্রাসের ভয় দেখিয়ে ভোটারদের আর বিভ্রান্ত করা যাবে না।’
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ভোটের মাঠে না থাকলেও কেন্দ্রে ভোটার দেখতে চান আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। নাম ঘোষণার আগে রোববার গণভবনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নিয়ে গণভবনে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় দলের প্রার্থীদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। সভায় উপস্থিত নেতারা জানান, এই সভায় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তাদের ক্ষেত্রে নমনীয় থাকার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, ‘মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীর পাশাপাশি ডামি ক্যান্ডিডেটও (বিকল্প প্রার্থী) রাখতে বলেছেন (শেখ হসিনা), যেন কারও মনোনয়ন বাতিল বা প্রত্যাহার করলে যেন ডামি ক্যান্ডিডেট নির্বাচন করতে পারে।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘নেত্রী বিকল্প প্রার্থী রাখতে বলেছেন নির্বাচনে যাতে কেউ কোনো ধরনের অনিয়ম করতে না পারে। ভোটারের উপস্থিতি যাতে বাড়ে, সেজন্যও কাজ করতে বলেছেন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার বলেন, গণমাধমে জেনেছি-আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন এবার কেউ চাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থীও হতে পারবে। মানে- এরকমও হতে পারে- যারা বাদ পড়লেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবেন। এই বিষয়টি দলের প্রার্থীদের জন্য ভালো।
ভোট আসলেই বারবার ধর্মকে টেনে এনেছিলো আওয়ামী বিরোধী শিবির। তারা প্রতি বছর আওয়ামী লীগকে ইসলামের শত্রু বলে প্রচার করতো। তারা বলে এসেছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মসজিদে উলু ধ্বনি হবে। দেশে কোন মুসলমান থাকবে না। কোরআন চাইলে বিএনপিকে ভোট দিতে হবে।
বেতার-টিভিতে কোরআন তেলাওয়াত-তাফসির প্রচার শুধু বাংলাদেশেই আছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এটি শুরু করেন। পৃথিবীতে শুধু বাংলাদেশেই এই ব্যবস্থা চালু আছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে একসাথে ৫০টি ৫০টি করে ২০০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করে তার উদ্বোধন করেছেন। ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা ব্যায়ে ৫৬৪টি নতুন মসজিদের মধ্যে ২০০টি উদ্বোধন করা হয়েছে। অবশিষ্ট মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে শেখ হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বে কোন মুসলিম শাসকের এক সংগে ৫০টিরও বেশি মডেল মসজিদ নির্মাণ করতে পারেনি। মডেল মসজিদ নির্মাণ আমাদের বাংলাদেশেই প্রথম। প্রশ্ন হলো এবার তারা কি অপপ্রচার করবেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রমশ নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে যে আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফিরছেন।




