মোতাহের হোসেন ইমরান
সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গুনক গ্রামের লস্কর মালের বাড়িতে পূর্ব শত্রুতার জেরে ইয়াকুব নবী তারেক (২৬) নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও লাঠিপেটা করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ইয়াকুব নবী তারেক বগাদানা ইউনিয়ন তাঁতীদলের সাংগঠনিক সম্পাদক।
ঘটনার খবর পেয়ে সোনাগাজী মডেল থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির পাশ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইয়াকুব নবী তারেক প্রতিদিনের মতো ইফতার শেষে মাগরিবের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যান। সেখানে একই বাড়ির সাঈদুর রহমান পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা আছে বলে তাকে ডেকে নেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর সাঈদুর রহমান, নাহিদ, শরীফ, তাদের পিতা ওয়াহিদুর রহমান ও নুর নাহারসহ কয়েকজন মিলে তার ওপর হামলা চালান।
তারেকের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও তার বাবা এগিয়ে এলেও হামলাকারীরা তাদের সামনেই এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে তারেকের শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে পরিবার ও এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়।
নিহতের বাবা কামাল উদ্দিন বলেন, ইফতারের পর ওয়াহিদুর রহমান ও তার সন্তানরা আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে সবাই মিলে মারধর করে। আমি বাধা দিলেও তারা শোনেনি। তারা বলছিল ‘ডাকাত মারছি’। আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যাকারীদের বিচার চাই।
তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক বিরোধ ও পূর্বের বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জয়নাল আবদিন বাবলু বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। আমরা এর তদন্ত পূবর্ক বিচার দাবি করছি।
ওসি কামরুল ইসলাম জানান, পারিবারিক শত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে তারেকের মাথায় ছয়টি আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।




