১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |
শিরোনাম
সৌদি আরবস্থ ফেনী প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ লালপোলে অটোরিকশা ছিনতাই, ট্রাক চাপায় চালক নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার-৩ সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনী’র উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল আজকে জুলাই সনদকে আদালত পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছে- মুজিবুর রহমান মঞ্জু মুন্সিরহাট থেকে নিষিদ্ধ ‘টাপেন্টাডল’ ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-১ দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌর বিএনপির বর্ণাঢ্য ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত দাগনভূঞায় সিএনজি লাইনম্যান লাতুকে মারধরের অভিযোগ, থানায় মামলা দাগনভূঞায় কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি বন্ধে জিরো টলারেন্সের নির্দেশ: মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু দৈনিক নয়াপয়গামের দোয়া ও ইফতার মাহফিলে বিশিষ্টজনদের মিলন মেলা
  • প্রচ্ছদ
  • এক্সক্লুসিভ >> জাতীয় >> টপ নিউজ
  • অধিকারের আদিলুর গুজব ছড়িয়েছিলেন ক্ষমতার লোভে
  • প্রমান করতে পারেনি কোন মৃত্যুর ঘটনা

    অধিকারের আদিলুর গুজব ছড়িয়েছিলেন ক্ষমতার লোভে

    দৈনিক আমার ফেনী

    জমির বেগ
    শাপলা চত্বরে ৬১ জন নিহত হয়েছে বলে প্রচার করেও অধিকারের আদিলুর প্রমান করতে পারেনি একটি মৃত্যুর ঘটনাও। ২০১৩ সালের ৫ মে। রাজধানী ঢাকার মতিঝিল শাপলা চত্বরও তার আশপাশ এলাকায় ভয়ঙ্কর তাণ্ডব চালান হেফাজতে ইসলামীর ব্যানারে একটি ধর্মান্ধ গোষ্ঠী।
    ওই দিন রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে ছিল হেফাজত ইসলামের মহা সমাবেশ। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মাদরাসা শিক্ষার্থী ও তাদের ওস্তাদরা এসে জড়ো হন শাপলা চত্বরে। দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো ফেনীতে তাদের নাস্তা ও পানি বিতরণ করেন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ সাধারণ মানুষ।
    কিন্তু সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই সমাবেশ থেকে হঠাৎ শুরু হয় ভয়ঙ্কর তাণ্ডব। রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র মতিঝিল থেকে শুরু করে আশপাশের পল্টন, বায়তুল মোকাররম, প্রেস ক্লাব, গুলিস্তানসহ অন্যান্য এলাকায় শুরু করে তারা জ্বালাও-পোড়াও। বায়তুল মোকারম মার্কেটে কোরআন শরীফের দোকানও তারা পুড়িয়ে দেয়। সড়ক ডিভাইডার ভেঙ্গে ফেলা, ইলেকট্রিকেল করাত দিয়ে সড়কের বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলা, বিভিন্ন মার্কেটে লুটপাট করা শুরু করে একটি গোষ্ঠি। তারা চেয়েছিল পুরো দেশে অরাজকাতা সৃষ্টি। তারা হামলা চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মিডিয়ার উপর। দুটি টেলিভিশন মিডিয়া ছাড়া অন্য মিডিয়া দেখলেই তারা চালায় আক্রমন।
    সন্ধ্যার আগে তাদের সমাবেশ শেষ করার কথা থাকলেও হেফাজত কর্মীরা শাপলা চত্বর ছাড়লেন না। ঘোষণা দিলেন তারা রাজপথ ছাড়বেন না। তারা পুরো এলাকা করে ফেললেন অবরুদ্ধ।
    এই সমাবেশে পিছন থেকে সব ধরণের সহযোগিতা করে বিএনপি ও জামায়াতসহ চার দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। ইসলাম রক্ষার নামে হেফাজতে ইসলামীর ঘাড়ে বন্দুক রেখে বিপ্লবের চেষ্টা চালায় চার দলীয় জোট। এই সমাবেশের মূল্য লক্ষ্য ছিলো সরকারের পতন। তারা চেয়েছিলো ইসলামি বিপ্লবের নামে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে পুরো দেশকে অচল করে দিয়ে ক্ষমতা দখল। সেই লক্ষ্যে দিনভর তাণ্ডব চালায় তারা। তারা চেয়েছিলো রাতভর শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়ে পুরো ঢাকা দখলে নেয়া। তাদের টার্গেট অনেকটা অগ্রসরও হয়।
    সে সময় সরকারের কাছে তথ্য আসে পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করতে হেফাজতের সমাবেশ শেষেও শাপলা চত্বরে থাকতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমান্ড নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশেই হেফাজতের নেতারা মাদরাসার ছোট ছোট বাচ্চাদের রাস্তায় বসে থাকার নির্দেশ দেন। এক পর্যায়ে গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হেফাজতকর্মীদের শাপলা চত্বর থেকে বিদায় করতে উদ্যোগ নেয়। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে শাপলা চত্বরের একদিক খোলা রেখে বাকি তিন দিক ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কোনো ধরণের হামলা না করে শুধুমাত্র সাউন্ড গ্রেনেড দিয়ে হেফাজত কর্মীদের শাপলা চত্বর থেকে তাড়িয়ে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
    এই ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও বিএনপি-জামায়াতের নেতা এবং হেফাজতের নেতারা মিথ্যা প্রচার করতে শুরু করেন এই বলে যে, মতিঝিল চত্বর লাশে সয়লাব হয়ে গেছে। হাজার হাজার হেফাজত কর্মীকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী হত্যা করে লাশ গুম করেছে। তাদের এই অভিযোগের সঙ্গে সুর মিলিয়ে চরম মিথ্যাচার ও জালিয়াতি শুরু করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার। যার নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সম্পাদক আদিলুর রমান খান।
    তার প্রতিবেদনে বলা হয়,শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতকর্মীদের সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে হেফাজতের ৬১টি জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। কোনো রকম তথ্য-উপাত্ত ছাড়াই আদিলুর হেফাজতের পক্ষে একটা মনগড়া প্রতিবেদন তৈরি করে গুজব ছড়িয়ে দেন। তার এই গুজব ছড়ানোর কারণে ওই সময় দেশে-বিদেশে সরকারকে তীব সমালোচনার মধ্যে পড়তে হয়। যদিও সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি আদিলুর রহমান খান।
    অধিকার সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ছিলেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সুবিধাভোগী। জোট সরকারের আমলে রাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। তার চোখেমুখে স্বপ্ন ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট আবার ক্ষমতায় এলে তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল পদ অলংকৃত করবেন। জোট সরকারের সুবিধাভোগী এই আইনজীবীই নিজেকে মানবাধিকারকর্মী পরিচয় দিয়ে বিএনপি জামায়াতের পক্ষে মাঠে নামেন মিথ্যা অপপ্রচার আর গুজব ছড়ানোর কাজে।
    ২০১৩ সালে ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশ ভণ্ডুলের যৌথ অভিযানে ৬১ জন নিহত হয় বলে দেশ-বিদেশে গুজব ছড়ায় আদিলুরের প্রতিষ্ঠান অধিকার। যদিও সেই রাতের অভিযানে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তদন্তেও সেটা প্রমাণিত হয়েছে।
    পুলিশের দাবি, মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের সমাবেশে আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ৬১ জন নিহত হওয়ার যে তালিকা প্রকাশ অধিকার করেছে, তা ছিলো সম্পূর্ণ অসত্য এবং বিকৃত। গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, রাতের ছবিকে তারা দিনের ছবি করেছে। বিভিন্ন জায়গায় মরদেহ দেখিয়েছে। তদন্ত এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
    অধিকার যে ৬১ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে তদন্তে দেখা গেছে, পাঁচজনের নাম দুই বার করে এসেছে। চারজন নারায়ণগঞ্জ এবং দুজন চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে পরের দিন গণ্ডগোলে মারা গেছেন। একজন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। নাম আছে কিন্তু ঠিকানা নেই ১১ জনের। নাম এবং ঠিকানা ভুয়া সাত জনের। ১০ নম্বর ক্রমিকে কারও নাম উল্লেখ নেই। এছাড়া চারজন জীবিত আছেন, তাদের মধ্যে কেউ জেলখানায়, কেউ মাদ্রাসায়, আবার কেউ চাকরি করছেন।
    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৬১ জনের মধ্যে ৩৫ জনের নাম বাদ দিলে যে ২৬ জন থাকে, তাদের কেউই শাপলা চত্বরে পুলিশি অভিযানে মারা যাওয়ার কোন তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর এ ২৬ জনের মধ্যে অন্য রাজনৈতিক দলের কর্মী, অফিস কর্মচারী, পথচারী ও পরিবহন শ্রমিক রয়েছে।
    এ তালিকার ১ নম্বরে সিদ্দিকুর রহমান নামে একজনের নাম উল্লেখ রয়েছে। অথচ সিদ্দিক পুলিশের রিক্যুজিশন করা গাড়ির চালক। ৫ মে দুপুরে বায়তুল মোকাররম এলাকায় হেফাজতে ইসলামের হামলায় মারা যান তিনি। অধিকারের প্রতিবেদনে এসব উল্লেখ করা হয়নি।
    তাছাড়া ৫ মে হেফাজতে ইসলামের হামলার শিকার হয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা মারা গেলেও অধিকারের তালিকায় তার নাম নেই। অধিকারের প্রতিবেদন ছিল একপেশে। কেননা হেফাজত কর্মীরা ৫ মে দিনব্যাপী যে তাণ্ডব চালিয়েছে, প্রতিবেদনে তার কোনো বর্ণনাও ছিল না।
    অধিকার কর্মী এবং বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করা আদিলুর রহমান খান সবচেয়ে বড় অভিযোগ তিনি গুজব ছাড়ানোয় পারদর্শী। এছাড়া তিনি যে সংগঠন চালান তাতে নানারকম অসচ্ছতার অভিযোগও রয়েছে। সবকিছু ছাপিয়ে হেফাজত কাণ্ডে ৬১টি জনের মৃত্যু হয়েছে বলে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে অস্থির করার চেষ্টা করেছিলেন। বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে ফায়দা লুটার চেষ্টা চালিয়েছিলেন।
    আদিলুরের সংগঠন অধিকার এর বিরুদ্ধের আর্থিক অনিয়ম, তথ্য দিয়ে সহযোগিতা না-করা ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করায় সম্প্রতি এনজিও ব্যুরো সংস্থাটির নিবন্ধন বাতিল করেছে।

    আরও পড়ুন

    সৌদি আরবস্থ ফেনী প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল
    অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ
    লালপোলে অটোরিকশা ছিনতাই, ট্রাক চাপায় চালক নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার-৩
    সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনী’র উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল
    আজকে জুলাই সনদকে আদালত পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছে- মুজিবুর রহমান মঞ্জু
    মুন্সিরহাট থেকে নিষিদ্ধ ‘টাপেন্টাডল’ ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-১
    দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌর বিএনপির বর্ণাঢ্য ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
    দাগনভূঞায় সিএনজি লাইনম্যান লাতুকে মারধরের অভিযোগ, থানায় মামলা