নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের প্রথম নারী সরকারপ্রধান বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় ফেনীর ফুলগাজীতে দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুন্সি রফিকুল আলম মজনু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুন্সি রফিকুল আলম মজনু বলেন, “খালেদা জিয়াকে দেওয়া মানুষের এই ভালোবাসা ধরে রাখতে হবে। নেত্রীর মৃত্যুর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “খালেদা জিয়া যেভাবে এদেশ, এদেশের মানুষ এবং দলের নেতাকর্মীদের ভালোবেসেছেন, ঠিক সেভাবেই তাঁর আদর্শ ধারণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘরে ঘরে গিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”
ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল আলম স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোক সভা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হোসেন ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির সদস্য মাহতাব উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী মিনার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম মন্টু, মাস্টার আবুল কালাম, আবুল খায়ের, শহীদ উল্লাহ মজুমদার ও আখতারুজ্জামান আজিম, দপ্তর সম্পাদক ইয়াসিন মোহাম্মদ মজুমদার।
এছাড়া সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনির আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক জহির উদ্দিন, আমজাদহাট ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম সরোয়ারসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হুদা শাহীন, ইব্রাহিম হোসেন, মোশাররফ হোসেন চৌধুরী সোহেল ও বেলাল হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম রসূল ও সদস্য সচিব আবুল কালাম, উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন রিয়াজ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ ও যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদ হোসেন জীবনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী।
দোয়া ও মিলাদ মাহফিল পরিচালনা করেন ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা জামাল উদ্দিন। শেষে দেশ, জাতি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সফলতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়। এ সময়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং সারা দেশে ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
গত ৩১ ডিসেম্বর পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খালেদা জিয়াকে তাঁর স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়। দাফনের আগে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া এভিনিউতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।




