২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয় >> টপ নিউজ
  • এক স্মার্ট কার্ডে অনেক সেবা
  • এক স্মার্ট কার্ডে অনেক সেবা

    দৈনিক আমার ফেনী

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    স্মার্ট যাত্রীসেবায় সরকারের উদ্যোগ র‌্যাপিড পাস। এটি স্মার্ট কার্ডভিত্তিক একটি স্বয়ংক্রিয় ভাড়া সংগ্রহ ব্যবস্থা যা দেশের গণপরিবহন এমনকি মেট্রোরেলেও ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালের ৪ জানুয়ারি র‌্যাপিড পাসের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এটি মেট্রো স্টেশন, রেলওয়ে স্টেশন, বাস স্টপ ও টার্মিনাল এবং বিভিন্ন পরিবহন ব্যবস্থার যানবাহনে ব্যবহার করার মতো করে চালু করা হয়েছে।

    র‌্যাপিড পাস উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, আমরাও পিছিয়ে নেই। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা চলতে চাই। দেশের জনগণকে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ডিজিটাল সুযোগ দিতে র‌্যাপিড পাস চালু করছি।’

    র‌্যাপিড পাস হলো একটি স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধের ব্যবস্থা। এই পাসের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ডে রিচার্জ করে এর মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করে নির্দিষ্ট দূরত্ব পাড়ি দেওয়া যাবে। ফলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ থাকবে না পরিবহন শ্রমিকদের।

    র‌্যাপিড পাস কার্ড দিয়ে কী হবে:
    সড়ক ও সেতুর টোল, সুপারমার্কেটের কেনাকাটা থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের বেতন পরিশোধ; সব একটি কার্ডের মাধ্যমেই করা যাবে। এটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সরকারি পরিষেবার বিলও পরিশোধ করা যাবে। গ্রাহকরা তাদের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট থেকে কার্ডটি রিচার্জ করতে পারবেন। পার্সে বা মানিব্যাগে একাধিক কার্ড নিয়ে চলাফেরা, তারপর নির্দিষ্ট বিল পরিশোধে বিশেষ একটি কার্ড খুঁজে বের করার ঝামেলা নেই। মেট্রোরেলে র‌্যাপিড পাস ব্যবহারে ভাড়ায় ১০ শতাংশ ছাড় পাওয়া যায়।

    এই পাসের মাধ্যমে যাত্রীরা নির্বিঘেœ সারা দেশে ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি), বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), বিআরটিসি বাস, সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত সব বাস, নৌ পরিবহন এবং ট্রেনসহ বিদ্যমান পরিবহন পরিষেবার সব ধরনের ভাড়া পরিশোধ করতে পারবেন।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, র‌্যাপিড কার্ড চালুর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, ক্যাশলেস (নগদ টাকাহীন) লেনদেনের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের সময় বাঁচানো। পাশাপাশি ঝামেলামুক্ত ভ্রমণ নিশ্চিত করা। এছাড়া গণপরিবহনে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
    র‌্যাপিড পাস কার্ড পেতে যা করবেন:
    র‌্যাপিড পাস কার্ড পেতে প্রথমে নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে হবে। অনলাইনে গিয়ে খুব সহজেই ফরমটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। তারপর সেটি পূরণ করে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের শাখায় জমা দিয়ে কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দুই কার্যদিবস সময় লাগবে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নিন্মবর্ণিত শাখা বা উপশাখাগুলো থেকে র‌্যাপিড পাস কিনতে পারবেন।

    উওরা সোনারগাঁও জনপদ শাখা, উওরা শাখা, রবীন্দ্র সরণি শাখা, পল্লবী শাখা, মিরপুর, মিরপুর সার্কেল ১০ শাখা, ইব্রাহিমপুর শাখা, শেওড়াপাড়া শাখা, কর্পোরেট শাখা, মতিঝিল, ইন্দ্রিরারোড শাখা, খালপাড় উপশাখা, উত্তরা, তালতলা উপশাখা, কাফরুল, সচিবালয় ফাস্টট্র্যাক। এছাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের ডিবিবিএল বুথ থেকেও র‌্যাপিড পাস কেনা যাবে।
    এছাড়াও র‌্যাপিড পাস অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে যোগাযোগ করে অনলাইনে কার্ড অর্ডার করার সুযোগ রয়েছে।

    র‌্যাপিড পাস কার্ড রিচার্জ করবেন যেভাবে:
    মেট্রোরেলের টিকেট বিক্রয় মেশিন থেকে র‌্যাপিড পাস কার্ড রিচার্জ করা যাবে। র‌্যাপিড পাসের প্রাথমিক মূল্য ৪০০ টাকা। এর মধ্যে ২০০ টাকা কার্ডের মূল্য এবং প্রাথমিকভাবে রিচার্জ করে দেয়া হবে ২০০ টাকা। একটি কার্ড একবারে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা রিচার্জ করা যাবে। তবে কার্ডের ব্যাল্যান্স ১০,০০০ টাকার বেশি হতে পারবে না। কার্ডে অপার্যাপ্ত ব্যাল্যান্স থাকলেও কার্ড ব্যবহারকারী প্রতিবার রিচার্জে একবার কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। তবে পরবর্তী রিচার্জে ওই পরিমাণ টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হবে। বর্তমানে অনলাইনেও র‌্যাপিড পাসের ব্যালেন্স চেক করা যায় খুব সহজেই।

    ডাচ বাংলা ব্যাংকের নির্দিষ্ট ব্রাঞ্চ ও সাব-ব্রাঞ্চে, র‌্যাপিড পাস বিক্রির এজেন্ট পয়েন্টে। (ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইনে রিচার্জ হয়না), মেট্রোরেল স্টেশনের টিকেট ভেন্ডিং মেশিন থেকে। মেট্রোরেল স্টেশনের টিকেট কাউন্টার বা এক্সেস ফেয়ার অফিস থেকে কার্ড রিচার্জ করা যাবে।

    এদিকে যাত্রীসেবা সহজ ও আধুনিক করার লক্ষ্যে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বিআরটিসি বাসে র‌্যাপিড পাস সার্ভিস চালু করলো রাষ্ট্রায়ত্ব পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। গতকাল বুধবার (২০ মার্চ) রাজধানীর গুলিস্তানে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী।

    উদ্বোধনকালে এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী জানান, এখন থেকে বিআরটিসি বাসে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা র‌্যাপিড পাস ব্যবহারের মাধ্যমে চলাচল করতে পারবেন। ফলে আশা করা হচ্ছে, যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে ভাড়া নিয়ে বাক-বিত-ার ঝামেলার নিরসন হবে।

    আরও পড়ুন

    দাগনভূঞায় অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার
    জনগণের ভালোবাসার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
    পরিবেশ ক্লাব অব ইয়ুথ নেটওয়ার্কের ডাস্টবিন স্থাপন
    তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ-ভারতের আন্তরিক উদ্যোগ
    ফুলগাজীতে আওয়ামী লীগের ঈদ পুনর্মিলনী
    অসহায় কৃষককে জেলা প্রশাসক দিলেন অনুদান
    ৫ ঘন্টার মধ্যে করা হবে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ
    দুই ট্রাকের প্রতিযোগিতা বলির পাঁঠা ফেরদৌস