২৫শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয় >> টপ নিউজ >> ফেনী
  • বাঙালির স্বাধীনতার ইতিহাস ও সংস্কৃতি মুছে ফেলার নীল নকশা নয়তো!
  • নূরানী মাদরাসা

    বাঙালির স্বাধীনতার ইতিহাস ও সংস্কৃতি মুছে ফেলার নীল নকশা নয়তো!

    দৈনিক আমার ফেনী

    জমির বেগ
    দেশের নূরানী মাদরাসাগুলোতে উড়ানো হয় না জাতীয় পতাকা। জাতীয় সংগীত কি তা তারা জানেও না। স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, মাতৃভাষা দিবস কি তাও তাদের জানানো হচ্ছে না। বাংলাদেশের জাতির জনক কে? তাও জানানো হচ্ছে না তাদের। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা কে এমন প্রশ্ন তারা বুঝেও না।
    প্রশ্ন উঠেছে স্বাধীনতা ও দেশ বিরোধী চক্র জাতিকে ধবংস করতে, গোমরা করতে নতুন করে কোন পরিকল্পনার অংশ এসব নূরানী মাদরাসা নয়তো। নূরানী মাদরাসাগুলো তাদের নীল নকশার অংশ নয়তো। আমরা না জেনে না বুঝে আমাদের সন্তানদের দেশ ও সত্ত্বা সম্পর্কে গোমরা বানাচ্ছি নাতো।
    এক সময় একটি চক্র আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধবংস করতে কিন্ডার গার্টেন স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। দেশের আনাচে কানাচে তারা আধুনিক শিক্ষার নামে কিন্ডার গার্টেন সৃষ্টি করে। দেশের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের পরিবারের শিশুদের তারা বিভিন্ন কলা কৌশলে কিন্ডার গার্টেনমূখী করে তুলে। তারপর তারা সেসব কিন্ডার গার্টেনে ভালো পড়ালেখার পাশাপশি কোমলমতী শিক্ষার্থীদের হাতে সাধারণ জ্ঞান বই ধরিয়ে দেয়। শিশুদের ছোট থাকতেই তাদের আদর্শের কিছু বই পড়ানোর মাধ্যমে মিথ্যা ইতিহাস শিখানো শুরু করে এ চক্রটি। এক পর্যায়ে তাদের ইসলামের শিক্ষার বিভিন্ন বই উপহার দেয়া হতো। যে বইগুলো ছিলো রাজনৈতিক আদর্শের এক ধরনের লিফলেট। এর বইর মাধ্যমে জামায়াত শিবির আমাদের সন্তানদের প্রকৃত ধর্ম না জানিয়ে বিপথে নিয়ে যেতো। তারা আমাদের সন্তানদের ইসলামের কথা বলতো, নামাজ কলমার কথা বলতো, নৈতিকতার কথা ঠিকই বলতো। তাদের এসব লোক দেখানো নৈতিক বৈশিষ্ট্যের কারনে আমাদের অভিভাবকরা ও সন্তানরা তাদের প্রতি আকৃষ্ট হতো। এক পর্যায়ে আমাদের সন্তানদের মিথ্যে তথ্য দিয়ে, নবী রাসুলের দোহাই দিয়ে পরিকল্পিত ভাবে তাদের রাজনৈতিক আদর্শের সদস্য বানাতো। তাদের ইসলামি বিপ্লবের কথা বলে, জিহাদ ও শহীদ হওয়ার কথা বলে রাজপথে নামিয়ে দিতে।
    এক পর্যায়ে দেশের অন্য দলের লোকেরাও কিন্ডার গার্টেন প্রতিষ্ঠা করা শুরু করে। দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো কিন্ডার গার্টেন ও প্রতিষ্ঠা করা হয়। কমতে থাকে সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা। যে যার মতো বই পড়ানো শুরু করার পর সরকার কিন্ডার গার্টেনগুলোকে প্রাইমারি স্কুলের কারিকুলামে নিয়ে আসে। তাদেরও দেয়া হয় সরকারি বই। বর্তমানে একই সিলেবাসে পড়ানো হচ্ছে প্রাইমারি স্কুল ও কিন্ডার গার্টেনগুলোতে।
    বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় রয়েছে। সরকার বিএনপি-জামায়াতের আমলে বিকৃত হওয়া দেশের ইতিহাস সঠিক করে আমাদের সন্তানদের জানাতে শুরু করে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বইয়ের মাধ্যমেই তাদের পর্যায়ক্রমে দেশের সঠিক ইতিহাস জানানো শুরু করে। একটি জেনারেশন দেশ সৃষ্টির সঠিক ইতিহাস মোটমুটি জেনে যায়। যখন আমাদের সন্তানরা বাংলা, ইংরেজি, ধর্ম, নৈতিক শিক্ষা, কম্পিউটারসহ প্রত্যেকটি বিষয়ে শিশুকাল থেকে জানতে শুরু করে ঠিক সেই মুহুর্তে আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠে স্বাধীনতা ও দেশ বিরোধী চক্রটি।
    তারা গত কয়েক বছর প্রতিটি গ্রামে গ্রামে, পাড়া মহল্লায় ব্যাঙের ছাতারমতো নূরানী মাদরাসা সৃষ্টি করে। নূরানী মাদরাসা নিয়ে প্রথমে কারো কথা মাথা ব্যাথা ছিলো না। এ মাদরাসাগুলোর মধ্যে অনেক গুলোতে প্রকৃত শিক্ষা দেয়া হচ্ছে এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ নূরানী মাদরাসা নীল নকশার অংশ হিসেবে গড়ে তুলা হয়েছে। আবার কেউ ব্যবসার উদ্দেশ্যে গড়ে তুলেছে এতো সন্দেহ থাকার কোন অবকাশ নেই।
    নীল নকশার অংশ হিসেবেই গত বছর আমাদের পাঠ্য পুস্তক নিয়ে একটি মহল মনগড়া বিভিন্ন প্রোপাগান্ড ছড়িয়ে মানুষকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর বিষিয়ে তুলে। এ মহলটি আমাদের মুসলমানদের পবিত্র ধর্মের বইতে মসজিদের পাশাপাশি মন্দিরের ছবি দিয়ে এটি ধর্ম বইয়ের মলাট এমন প্রচার করে জাতিকে অস্থির করার চেষ্টা পর্যন্ত চালায়। ব্যাঙের নাচ, শরীফা, সাইকেল টিংটংসহ বিভিন্ন কনটেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার উপর জনগনকে বিষিয়ে তুলে। এক পর্যায়ে আমাদের সন্তানদের তারা নূরানী মাদরাসামূখী করে তুলে।
    আগে আমাদের দেশে প্রতিটি মসজিদে মুক্তব ছিলো। মুক্তবগুলো ছিলো মসজিদ নির্ভর। আমরা দেশের প্রতিটি মুসলমান পরিবার ভোরে মুক্তবে আসতাম। আরবি, দোয়া কেরাত, নামাজ শিখেছি এসব মুক্তব থেকে। এসব মুক্তবে মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জেমরা আমাদের নৈতিক শিক্ষাও দিত।
    ইসলামের লেবাস লাগানো স্বাধীনতা বিরোধী চক্রটি দেশের প্রায় মসজিদ কমিটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলো কয়েক বছর আগেও। এক পর্যায়ে এ মহলটি পরিকল্পিতভাবে মসজিদ থেকে মুক্তব তুলে নেয়। এখন দেশের প্রায় মসজিদে মুক্তব নেই। মহলটি প্রথমে মুক্তব ধবংস করে। পরবর্তীতে নতুন আঙ্গিকে লেবেল লাগিয়ে মুক্তবের নাম দেয়া হয় নূরানী মাদরাসা। আগে মুক্তব ছিল মসজিদে। পড়ে মুক্তব বা নূরানী মাদরাসাগুলো করা হয় মানুষের বাড়িতে ও বিভিন্ন ফ্ল্যাটে। প্রথমে নূরানী মাদরাসাগুলো মুক্তবের মতো সকালে ঘন্টা খানেক শিশুদের আরবি ও দোয়া কেরাত শিখাতো। এই পর্যন্ত সব ঠিক ছিলো। সুন্দরই চলছিলো নূরানী মাদরাসা বা আধুনিক মুক্তবগুলো। এখানে সাধারণ শিক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক কিছু ছিলো না। হঠাৎ করে মহলটি মুক্তব মানের এ নূরানী মাদরাসাগুলোকে স্কুলের বা এবতেদায়ী মাদরাসার রুপ দিতে শুরু করে। অভিভাবকদের বেহেস্তের দোহাই দিয়ে তাদের সন্তানদের শুধু মাদরাসায় ভর্তি করে নেয়। তাদের বুঝানো হয় তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মাদরাসায় পড়ান। ধর্মীয় জ্ঞান বৃদ্ধির পর আপনার সন্তানকে স্কুল বা মাদরাসায় নিয়ে যাবেন। তিন বছরের কথা বলে মাদরাসাগুলো শিক্ষার্থীদের ৫ থেকে ৬ বছরও রেখে দেয়। দেখা যায় একজন শিশু যখন এসব নূরানী মাদরাসা থেকে তৃতীয় শ্রেণি পাশ করে তখন তার বয়স হয়ে যায় ১১ থেকে ১২ বছর। এ বয়সে সে পড়ার কথা ছিল ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে। তারপর অভিভাবকরা যখন তাকে স্কুলে বা এবতাদিয়া মাদরাসায় ভর্তি করতে নিয়ে যায় তখন দেখে যায় তারা বাংলা, ইংরেজির বর্নও ঠিকেমতো চিনে না। বয়সের কারণে তাকে নিচের শ্রেণিতেও ভর্তি করা যায় না। শেষে অভিভাবকরা তাদের স্থানীয় কিন্ডার গার্টেন, প্রাইমারি স্কুল বা এবতেদায়ী মাদরাসাগুলোতে ছিকই চাপ দিয়ে ভর্তি করায়। স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর তাদের অধিকাংশই পড়া-লেখা না পাড়ায় স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয়। এক পর্যায়ে তাদের শিক্ষা জীবন শেষ হয়ে যায়। গত কিছুদিন আগেও কয়েকটি পত্রিকায় দেখেছি এসএসসিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। তারা প্রতিবেদনটি সরকারের ব্যর্থতার কারণ বুঝানোর চেষ্টা করলেও বাস্তবে শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ার কারণ যে নূরানী মাদরাসা তারা তা বলেনি। তারা ইচ্ছাকৃত বা না জেনে তথ্যটি পাশ কেটে যান।
    সবচেয়ে বড় কথা হলো ছোট থাকতেই এসব নূরানী মাদরসার ওস্তাদরা আমাদের সন্তানদের মাথা ধৌলাই করে দিচ্ছেন। নূরানীর বর্তমান শিক্ষার্থীরা না বুঝে দেশ, দেশের ইতিহাস, কৃষ্টি, সংস্কৃতি। কিছুই না জানার কারনে তাদের ভেতর কখনও জন্ম নেয় না দেশপ্রেম। তারা হয়ে উঠে আতœকেন্দ্রীক, বেপারোয়া। তারা যেমন নিজের জন্য কিছু করতে পারে না তেমনি দেশের জন্য দশের জন্য কিছু করার মানসিকতাও তাদের মধ্যে জন্ম নেয় না। তারা ধর্মীয় গোড়ামী থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারে না।
    গত ২৯ ফেব্রুয়ারি দৈনিক আমার ফেনীতে “ফেনীতে নিয়ন্ত্রণহীন নূরানী মাদ্রাসা!” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপানো হয়ে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর কেউ প্রতিবেদককে ও পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে যুগোপযোগী প্রতিবেদনের জন্য ধন্যবাদ জানায়। আবার কেউ না বুঝে অথবা পরিকল্পিতভাবে প্রতিবেদনটি ঢালাওভাবে প্রকাশ করে নেগেটিভ স্ট্যাটাস দিয়ে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে পত্রিকাটির উপর ও প্রতিবেদকের উপর ক্ষেপিয়ে তুলার চেষ্টা করে। তাদের স্যাটাসের কমেন্টেসএ অনেকে প্রতিবেদক ও জেলা শিক্ষা অফিসারকে ইহুদি, নাস্তিক বলতেও পিছু পা হয়নি। এখানে তাদের কোন দোষ নেই। আগেই বলা হয়েছে আমাদের একটি জেনারেশনকে এই চক্রটি ছোট থাকতেই মাথা ধোলাই করে দিয়েছে। তারা কোন যুক্তি বা সত্য মানতে রাজি নয়। তাদের বিরুদ্ধে কারো মতামত গেলেই তারা তাদের তুলোধুলো করতে একটু চিন্তা করে না ও সময় নষ্ট করে না।
    প্রতিবেদনে জেলা শিক্ষা অফিসার বলেছিলো এসব মাদ্রাসার কারনে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অভিভাবকদের জান্নাতে যাওয়ার লোভ দেখিয়ে তারা মাদরাসায় ছাত্র ভর্তি করাচ্ছে। এমন বক্তব্য তারা মেনে নিতে নারাজ। জেলা প্রশাসক বলেছেন, এ প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে গড়ে উঠছে তা কিছুতেই কাম্য নয়, তাদের নীতিমালার মধ্যে আসা উচিত। জেলা প্রশাসকের বক্তব্যে আবার কেউ মুখ খুলতে চাননি।
    আমাদের দেশে যেভাবে নূরানী মাদরাসা গড়ে উঠছে, এভাবে আসলে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা উচিত কিনা। তাদের যেভাবে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে সেটা সঠিক কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ফেনী ফালাহীয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ফারুক আহমেদ বলেন, আসলে এসব প্রতিষ্ঠান আমাদের কোন খবরদারী নেই। কোন প্রতিষ্ঠান খুলতে অবশ্যই তাদের কোন না কোন নীতিমালার মধ্যে আসা উচিত। এব্যাপারে আমি আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু বলতে চাই না। তাছাড়া গত কয়েকদিন আগে শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় যুগাপযোগী একটি বক্তব্য রেখেছেন। তার বক্তব্যের পর আসলে বলার আগে কিছু থাকে না। তিনি তার কোন বক্তব্য পত্রিকায় প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

    ফেনী আলিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, এসব মাদরাসায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না, জাতীয় সংগীত গাওয়া হয় না। তাদের মতো অনেক মাদরাসায় এগুলো মানা হচ্ছে না। দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস অবশ্যই তাদের জানাতে হবে। এসব কারনে তাদের মধ্যে দেশপ্রেম সৃষ্টি হচ্ছে না। দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। তিনি বলেন, অনেকগুলো নূরানী মাদরাসায় ভালো পড়ালেখা হয়। তারপর তাদের একটি নীতিমালার মধ্যে আসা উচিত।
    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক মাওলানা বলেন, আমরা বাঙালি মুসলমানরা অনেকটা আবেগ প্রবন। আমরা আবেগকে কন্ট্রোল করতে পারি না। আমাদের নাম লেখলে তারা আমাদেরও নাস্তিক বলা শুরু করবে। আমাদের পবিত্র ধর্ম ইসলাম ধর্মে বলেছে বিধর্মীকেও নাস্তিক বা মুনাফেক বলা যায় না। আমরাতো কিছু হলেই সাথে সাথে অন্যকে নাস্তিক-মুনাফিক বলে ফেলি। তারা হয়তো জানানেই নূরানী মাদরাসা হলো একটি মুক্তব। স্কুলের সময়সূচিটা যদি ১০ টায় করে দেয়া হয় ও আবার মসজিদ ভিত্তিক মুক্তবগুলো চালু করা হয় তাহলে আমাদের সন্তানরা আবার আগের মতো করে মুক্তবে যাবে। মুক্তব শেষে স্কুল ও মাদরাসায় যাবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো এগুলোকে নীতিমালার মধ্যে আনা উচিত।

    ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজুল ইসলাম হাজারী বলেন, স্বার্থানেষী মহল বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি নীতিমালার মধ্যে চলতে হবে। তাদের জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় দিবসগুলো যথাযথ মর্যদায় পালন করতে হবে। আমাদের দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ, কৃষ্টি সবগুলো শিক্ষা তাদের দিতে হবে। আমরা নূরানী শিক্ষার বিপক্ষে নয়। আমাদের সন্তানদের পারিবারিক শিক্ষা, ইসলামি শিক্ষা ও স্কুল কলেজের শিক্ষাসহ সব ধরনের শিক্ষা দিতে হবে। কোন গোষ্ঠী বা কোন স্বাথর্ন্বেষী মহল এটাকে ব্যবহার করে ধর্মের অপপ্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে প্রশাসনকে নজর রাখতে হবে। নূরানী মাদরাসাগুলোর কোন উদ্দেশ্য আছে কিনা প্রশাসনকে খতিয়ে দেখতে হবে। সবার আগে মাদরাসাগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে। জাতীয় সংগীত গাইতে হবে।

    ফেনী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আইনুল কবির শামীম বলেন, এগুলোর বিরুদ্ধে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নূরানী মাদরাসা হলো মুক্তব শ্রেণির একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এগুলো কিছুতেই আমাদের প্রাইমারি স্কুল, কিন্ডার গার্টেন বা মাদরাসা মানের নয়। সেখানে নেই কোন মানসন্মত শিক্ষক। তাদের প্রতিষ্ঠানে আছে হুজুররা। তারা আমাদের সন্তানদের আরবি ও ইসলাম শিখাবে ঠিক আছে। বাংলা, ইংরেজি, গ্রামার, কম্পিউটার শিখানোর সক্ষমতা তাদের নেই। করোনাকালীন সময় সরকার স্কুলগুলো বন্ধ করে দিলেও মাদরাসাগুলো খোলা রেখে সকল শিশুকে সেখানে ভর্তি করে নিয়েছে। স্কুল বন্ধ ছিলো কিন্তু মাদরাসা খোলা ছিল এমনতো হওয়ার কথা ছিলো না। শিক্ষামন্ত্রী কয়েকদিন আগে বলেছেন সকল শিক্ষ প্রতিষ্ঠানকে নীতিমালার মধ্যে আনা হবে। এসবের বিপক্ষে সামজিক আন্দোলন গড়ে তুলা উচিত।

    জানতে চাইলে ফেনী ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার প্রফেসর তায়বুল হক বলেন, আমাদের যে শত-হাজার বছরের মূল্যবোধ। এই মূল্যবোধকে ধবংস করার জন্য একটি গভীর চক্রান্ত চলছে। দেশের ভেতর থাকা কোন সংস্থা, যারা আন্তর্জাতিক চক্রের সাথে জড়িত, ওই চক্রের মাধ্যমে এগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে। একটা গোমরাহ জাতি তৈরী করার জন্য। তারা না জানে বাংলা, না জানে ইংরেজি, না জানে আরবি, না জানে ধর্ম। তারা কিছুই জানে না। আমার প্রশ্ন তারা মাদরাসাগুলো চালানোর জন্য অর্থটা পায় কোথায়। আমার বিশ্বাস একটা চক্র আছে তারা বিদেশ থেকে বিভিন্নভাবে সাহায্য পায়। ছাত্রদের থেকে তারা কত টাকা বেতন পায়। ১৫ থেকে ৩০ জন ছাত্র নিয়ে তারা কিভাবে মাদরাসা চালাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি নাগরিককে এদেশের ইতিহাস ঐতিহ্য, কৃষ্টি সম্পর্কে জানতে হবে। জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকায় যদি তাদের হৃদয়ে আলোড়ন সৃষ্টি না হয় তাহলেতো পরগাছার মতো একটি জাতি সৃষ্টি হবে। তার না থাকবে দেশের প্রতি ভালোবাসা, না থাকবে ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা। আমাদের ধর্ম, কালচার, সংস্কৃতি সবগুলো লাগবে। সবগুলোই মিলিয়েই আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি, আমি বাঙালি। আমি আমার যে অস্তিত্ব সেটিকে অস্বীকার করে যদি অন্য ভাবধারায় আমি গড়ে উঠি, তাহলে আমিতো জাতি স্বত্তায় থাকবো না। এ যে মাদরাসা-মুক্তবগুলোতে জাতিয় সংগীত গাওয়া হয় না, জাতীয় পাতাকা উত্তোলন করা হয় না, এটা নিয়ে বহু কথা বহু বছর ধরে হচ্ছে। এগুলো মানার জন্য সরকার আদেশ দেয়, কিন্তু মানা হচ্ছে না। যারা এগুলোকে দেখভাল করে লোকাল প্রশাসন তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করছে না। আমার সোজা কথা হলো আমাদের এদেশ যেভাবে আমরা স্বাধীনতা অর্জণ করেছি। একটা বিজাতীয় সংস্কৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। আবার যদি আমাদের আবার ওইরকম একটা বিজাতীয় সংস্কতির আওতায় চলে যাই বা সেরকম ভাবে আমাদের ভবিষ্যৎ নাগরিককে গড়ে তোলা হয় এই যে ত্যাগ তার মূল্যায়নটা কোথায়। আমিতো আমার সেই অস্তিত্বকে অস্বীকার করতেছি। আমার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য, আমার বাঙালির বাঙালিত্ব রক্ষার জন্য সংস্কৃতি সঠিকভাবে লালন করার জন্য যা যা করার তা তা করতে হবে। এ বিষয়ে কোন আপস নাই। যারা এগুলো নিয়ন্ত্রনের দায়িত্বে থাকেন তারা তাদের দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করতে হবে। না হলে তাদের বিরুদ্ধে এ্যাকশান নেয়া উচিত।

    আরও পড়ুন

    দাগনভূঞায় অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার
    জনগণের ভালোবাসার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
    পরিবেশ ক্লাব অব ইয়ুথ নেটওয়ার্কের ডাস্টবিন স্থাপন
    তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ-ভারতের আন্তরিক উদ্যোগ
    ফুলগাজীতে আওয়ামী লীগের ঈদ পুনর্মিলনী
    অসহায় কৃষককে জেলা প্রশাসক দিলেন অনুদান
    ৫ ঘন্টার মধ্যে করা হবে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ
    দুই ট্রাকের প্রতিযোগিতা বলির পাঁঠা ফেরদৌস