১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয় >> টপ নিউজ
  • ভাষা আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  • ভাষা আন্দোলন ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

    দৈনিক আমার ফেনী

    মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া
    ভারতবর্ষ ভাগ হওয়ার আগেই নব-প্রতিষ্ঠিত দুটি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষা কী হবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যায়। ১৯৪৭ সালের জুলাইয়ে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ অভিমত ব্যক্ত করেন যে, হিন্দিকে ভারতের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে যেহেতু স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে, উর্দুকেও পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করা উচিত। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এ মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়ার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেন। পাকিস্তান সৃষ্টির পর সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো ঘোষণা না দেয়া হলেও বাংলাকে অবমূল্যায়ন করার প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
    ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে গঠিত ‘পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ’ ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শীর্ষক একটি পুস্তিকায় বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার বাহন ও আইন-আদালত ও অফিসাদির ভাষা করার প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু ১৯৪৭ সালের ৫ ডিসেম্বর করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার সুপারিশ করা হয়। পাকিস্তানের তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমান, মন্ত্রী হাবিরুল্লাহ বাহার ও আবদুল হামিদ ওই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। এই সংবাদ ৬ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে প্রকাশিত মর্নিং নিউজ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছাত্রদের প্রতিবাদ সভায় প্রস্তাব গৃহীত হয় যে, বাংলাকে পাকিস্তানের ডমিনিয়নের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা এবং পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি ভাষা ও শিক্ষার মাধ্যম করা হোক। এটিই রাষ্ট্রভাষার দাবি নিয়ে ছাত্রদের প্রথম সমাবেশ। ওই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন তমদ্দুন মজলিশের সম্পাদক অধ্যাপক আবুল কাশেম।

    ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব করেন। ওই অধিবেশনে কুমিল্লার কংগ্রেস সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা ভাষা ব্যবহারের পক্ষে একটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, পাকিস্তানের ৬ কোটি ৯০ লাখ জনগণের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের (পূর্ব বাংলার) ৪ কোটি ৪০ লাখ লোকের ভাষা বাংলা। কাজেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের ভাষাই রাষ্ট্রভাষা হওয়া উচিত। ২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে অনুষ্ঠিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তীব্র ভাষায় এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। দুঃখের বিষয়, মুসলিম লীগ দলের কোনো বাঙালি সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে সমর্থন করে কথা বলেননি। পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিনও উর্দুর পক্ষাবলম্বন করেন। ১১ মার্চ গণপরিষদে প্রস্তাব পাস হয় যে, উর্দু হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

    ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান গণপরিষদের আচরণ বিষয়ে শেখ মুজিবুর রহমান বলেন… “১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ যখন করাচিতে গণপরিষদে এ মর্মে প্রস্তাব পাস করা হলো যে, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, তখন থেকেই বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের সূত্রপাত। তখন কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত একা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন। আমি অবাক হয়ে যাই, ওই সময় আমাদের বাঙালি মুসলিম নেতৃবৃন্দ কী করেছিল?”

    পশ্চিম পাকিস্তানে সংবিধান সভার বৈঠক চলাকালীন পূর্ব বাংলার ছাত্র ও সচেতন মহল বুঝতে পারলেন যে, বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য বিরাট ষড়যন্ত্র চলছে। গণপরিষদে বাংলা ভাষাবিরোধী সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে ঢাকায় ছাত্রসমাজ ২৬ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট পালন করে। বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২ মার্চ ফজুলল হক হলে বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীদের একটি সভা আহ্বান করা হয়। কামরুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় ১১ মার্চ সমগ্র পূর্ব বাংলায় ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং ওই দিনকে ‘বাংলা ভাষা দাবি দিবস’ ঘোষণা করা হয়। এ সভাতেই ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’কে সর্বদলীয় রূপ দেয়া হয়।

    ১১ মার্চের কর্মসূচি সফল করার জন্য সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ জেলায় জেলায় সফরে বেরিয়ে পড়েন। তৎকালীন ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর, যশোর হয়ে দৌলতপুর, খুলনা ও বরিশালে ছাত্রসভা করেন।

    ১১ মার্চ ‘বাংলা ভাষা দাবি দিবস’ উপলক্ষে পূর্ব বাংলায় সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। ওই দিন ভোরবেলা শত শত ছাত্র ইডেন বিল্ডিং, জিপিও ও অন্যান্য জায়গায় পিকেটিং শুরু করেন। পুরো ঢাকা শহর পোস্টারে ভরে যায়। ছাত্রদের আন্দোলনে পুলিশ লাঠিপেটা করে। নানা জায়গায় অনেক ছাত্র আহত হন। সর্বজনাব শামসুল হক, শেখ মুজিবুর রহমান, অলি আহাদসহ সত্তর-পঁচাত্তরজন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর ফলে আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠে। স্বাধীন পাকিস্তানে এটিই শেখ মুজিবের প্রথম গ্রেপ্তার।

    তখন পূর্ব পাকিস্তান আইনসভার অধিবেশন চলছিল। এই সময় শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, বগুড়ার মোহাম্মদ আলী, তোফাজ্জুল আলী, ডা. মালেক, খান এ সবুর, খয়রাত হোসেন, আনোয়ারা খাতুন এবং আরও অনেক সদস্য ছাত্রদের পুলিশ কর্তৃক মারধর ও জেলে প্রেরণের প্রতিবাদ করেন। নাজিমউদ্দিন সাহেব ঘাবড়ে গেলেন এবং সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে আলাপ করতে রাজি হলেন।

    ১১ মার্চের আন্দোলন ও ধর্মঘটের প্রস্তুতির জন্য শেখ মুজিবসহ অন্য নেতৃবৃন্দ আগেই ঢাকায় চলে আসেন। ১০ মার্চ রাতে ফজলুল হক হলে রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের এক সভা হয়। সভায় কিছু বক্তার আপসকামী মনোভাব দেখে শেখ মুজিব বলেন, ‘সরকার কি আপস প্রস্তাব দিয়েছে? নাজিমউদ্দিন সরকার কি বাংলা ভাষার দাবি মেনে নিয়েছে? যদি তা না হয়ে থাকে, তবে আগামীকাল ধর্মঘট হবে, সেক্রেটারিয়েটের সামনে পিকেটিং হবে।’

    শেখ মুজিবকে সমর্থন দিলেন অলি আহাদ, মোহাম্মদ তোয়াহা, মোগলটুলীর শওকত আলী ও শামসুল হক সাহেব। অলি আহাদ তার ‘জাতীয় রাজনীতি- ৪৫ থেকে ৭৫’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, “সেদিন (১০ই মার্চ) সন্ধ্যায় যদি মুজিব ভাই ঢাকায় না পৌঁছাতেন, তা হলে ১১ই মার্চের হরতাল, পিকেটিং কিছুই হতো না।”

    ছাত্র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নাজিমউদ্দিন সরকারের আলোচনার পর উভয়পক্ষ মিলে একটি সমঝোতা চুক্তি প্রণয়ন করে। বিশিষ্ট ছাত্র নেতৃবৃন্দ জেলে থাকায় চুক্তিপত্রটি তাদের অনুমোদনের জন্য অধ্যাপক আবুল কাশেম ও কামরুদ্দিন আহমেদ গোপনে জেলে নিয়ে যান এবং শামসুল হক, শেখ মুজিবুর রহমান ও অলি আহাদ বন্দিদের পক্ষে খসড়া চুক্তির শর্তাবলি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অনুমোদন করেন।

    চুক্তির প্রধান প্রধান শর্তগুলো ছিল-বন্দিদের মুক্তি, পুলিশি নির্যাতনের প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক তদন্ত, বাংলা ভাষাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা ও শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করার জন্য পূর্ব পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব উত্থাপন, সংবাদপত্রের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। আট দফা চুক্তিটি ১৫ মার্চ সরকারের পক্ষে খাজা নাজিমউদ্দিন এবং সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে কামরুদ্দিন আহমদ স্বাক্ষর করেন। চুক্তির শর্ত মোতাবেক ১৫ মার্চ শেখ মুজিব ও অন্য নেতৃবৃন্দসহ বন্দিরা মুক্তি লাভ করেন।

    আন্দোলন যাতে ঝিমিয়ে না পড়ে, সে জন্য ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ছাত্র সমাবেশ ডাকা হয়। ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমান। বিখ্যাত আমতলায় এটিই শেখ মুজিবের প্রথম সভা। তিনি আন্দোলনের কিছু দিকনির্দেশনা দেন। যেসব শর্তের ভিত্তিতে সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে সরকারের আপস হয়েছে, সেসব মেনে চলতে হবে। তবে সভা খাজা নাজিমউদ্দিন কর্তৃক পুলিশি নির্যাতনের যে তদন্ত হবে তা মানতে রাজি নয়।

    শেখ মুজিব বল্লেন, ‘ঠিক আছে, আমরা প্রস্তাবটি শুধুমাত্র পরিবর্তন করতে অনুরোধ করতে পারি, এর বেশি কিছু না।’ সিদ্ধান্ত হলো শোভাযাত্রা করে আইন পরিষদে গিয়ে খাজা নাজিমউদ্দিনের কাছে এই দাবিটা পেশ করে চলে আসবে। কিন্তু ছাত্র-জনতা শেখ মুজিবের কথা মানেননি। দিনভর অনেক ছাত্র-জনতা আইন পরিষদের কাছে দাঁড়িয়ে থাকে। পুলিশ লাঠিচার্জ করে ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। ছাত্র-জনতাকে নিবৃত্ত করতে শেখ মুজিব আবারও সেখানে ছুটে যান। শেখ মুজিবকে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের মুখোমুখি হতে হয়।

    রাষ্ট্রভাষা বাংলার আন্দোলন শুধু ঢাকায়ই সীমাবদ্ধ ছিল না, দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘বাংলা পাকিস্তানের শতকরা ছাপ্পান্ন ভাগ লোকের মাতৃভাষা। তাই বাংলাই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হওয়া উচিত। তবুও আমরা বাংলা ও উর্দু দুইটা রাষ্ট্রভাষা করার দাবি করেছিলাম।’

    পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রায় সাত মাস পর ১৯ মার্চ পাকিস্তানের জাতির পিতা গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা সফরে আসেন। ২ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র-জনতার অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন না করে ঘোষণা করেন, ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।’ শেখ মুজিব তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে বলেন-

    “আমরা প্রায় চার পাঁচশত ছাত্র এক জায়গায় ছিলাম সে সভায়। অনেকে হাতে তুলে জানিয়ে দিল মানি না, মানি না। ২৪ মার্চ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভোকেশনে বক্তৃতা করতে উঠে তিনি যখন আবার বললেন, ‘উর্দুই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে’ তখন ছাত্ররা তার সামনেই বসে চিৎকার করে বলল, ‘না, না, না’।

    জিন্নাহ প্রায় পাঁচ মিনিট চুপ করেছিলেন, তারপর পুনরায় বক্তৃতা করেন। আমার মনে হয়, এই প্রথম তার মুখের উপরে তার কথার প্রতিবাদ করল বাংলার ছাত্ররা। এরপর জিন্নাহ যতদিন বেঁচেছিলেন, আর কোনো দিন বলেন নাই, উর্দুই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে।”

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর কাছে স্মারকলিপি দাখিল করা হয়।

    মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা ত্যাগ করার পর ছাত্রদের মধ্যে রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে কিছুটা দ্বিধা ও হতাশার জন্ম হয়েছিল। কারণ পূর্ব ও পশ্চিম উভয় পাকিস্তানেই জিন্নাহর গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তি ছিল। ছাত্রসমাজের এই দ্বিধাদ্বন্দ্বের সময় কেউ কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে জিন্নাহর অবস্থানকে সমর্থন করে বক্তব্য রাখেন। এ সময় শেখ মুজিবের নেতৃত্বের দূরদর্শিতা লক্ষ করা যায়। তিনি বলেন, ‘নেতা অন্যায় করলেও ন্যায়ের স্বার্থে তার প্রতিবাদ করতে হবে। বাংলা ভাষা শতকরা ৫৬ জন লোকের মাতৃভাষা, পাকিস্তান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সংখ্যাগুরুদের দাবি মানতেই হবে। রাষ্ট্রভাষা বাংলা না হওয়া পর্যন্ত আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাব।’

    সাধারণ ছাত্ররা শেখ মুজিবকে সমর্থন করলেন। এরপর ভাষার দাবিতে পূর্ব পাকিস্তানে আন্দোলন, শোভাযাত্রা অব্যাহত থাকে।

    ১৯৪৮ সালের ৬ এপ্রিল পূর্ব বাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের অধিবেশন বসে। প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন বাংলাকে পূর্ব বাংলার সরকারি ভাষা ও শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। যদিও প্রস্তাবটি বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব ছিল না, তথাপি এর পর থেকে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসে, যদিও ১৯৫০ ও ১৯৫১ সালে যথারীতি ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

    ১৯৪৯ সালের ১১ অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগের উদ্যোগে ঢাকার আরমানিটোলা ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় মওলানা ভাসানী, শামসুল হক ও শেখ মুজিবুর রহমান বক্তৃতা করেন। এরপর খাদ্যের দাবিতে এক ভুখা মিছিল বের করা হয়। পুলিশ মিছিলে আক্রমণ করে। শেখ মুজিব কৌশলে গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হন। কিন্তু শেখ মুজিব ৩১ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় এলে উল্লিখিত জনসভায় সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রদানের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং একটানা ২৬ মাস রাজনৈতিক (নিরাপত্তা) বন্দি হিসেবে জেলে আটক রাখে।

    রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় ১৯৫২ সালের জানুয়ারি মাস থেকে। ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মৃত্যুবরণ করলে খাজা নাজিমুদ্দিন পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল এবং নুরুল আমিন পূর্ব বাংলার প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন। ১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়ার পর নাজিমুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী পদের দায়িত্ব পান।

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রথম ঢাকায় আসেন ১৯৫২ সালের ২৫ জানুয়ারি। ২৬ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় খাজা নাজিমউদ্দিন বক্তৃতা করেন এবং ঘোষণা করেন ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।’ তার এ ঘোষণার পর ১৯৪৮ সালের চেয়েও ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। কারণ ১৯৪৮ সালে জিন্নাহর যে জনপ্রিয়তা ছিল এবং নতুন রাষ্ট্রের প্রতি পূর্ব বাংলার মানুষের যে মোহগ্রস্ততা ছিল, ১৯৫২ সালে ততটা ছিল না।

    ৩০ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্মঘট পালিত হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সভা করে ‘বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা কমিটি’। ওই দিন সন্ধ্যায় ঢাকা জেলা বার লাইব্রেরি মিলনায়তনে সর্বস্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্র ও তরুণদের বাইরে এটিই প্রথম সভা যেখানে বিশিষ্ট নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সমবেত হন। এ সভায় পূর্বে গঠিত রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদকে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ’-এ রূপান্তরিত করা হয়। কাজী গোলাম মাহবুব এ পরিষদের আহ্বায়ক নিযুক্ত হন।

    এ পরিষদের সঙ্গে যারা যুক্ত হন, তাদের মধ্যে ছিলেন শামসুল হক চৌধুরী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, কামরুদ্দিন আহমদ, আবুল হাসিম, আতাউর রহমান খান, আনোয়ারা খাতুন, শামসুল হক, আবদুল মতিন, মির্জা গোলাম হাফিজ, আতাউর রহমান খান, আবদুল গফুর, খয়রাত হোসেন, আবুল কাশেম, মোহাম্মদ তোয়াহা, অলি আহাদ, খালেক নেওয়াজ প্রমুখ। ওই সভায় ৪ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

    তরুণ রাজনৈতিক নেতা শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহিউদ্দিন আহমদ তখন জেলে বন্দি ছিলেন। অসুস্থতার ভান করে শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হলেন। হাসপাতাল থেকেই শেখ মুজিব গোপনে মোহাম্মদ তোয়াহা, অলি আহাদ, শওকত আলী, আবদুস সামাদ আজাদ, গোলাম মাওলা প্রমুখের সঙ্গে সভা করে জানিয়ে দেন ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা দিবস পালন করা হবে, হরতাল হবে এবং অ্যাসেম্বলি ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হবে।

    এদিকে শেখ মুজিবুর রহমান ও মহিউদ্দিন আহমেদ তাদের দীর্ঘ কারাবাস (২৬ মাস) থেকে মুক্তির জন্য ১ ফেব্রুয়ারি সরকারের কাছে আবেদন করেন এবং জানান যে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের মুক্তি দেয়া না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে জেলের ভেতর অনশন ধর্মঘট করবেন।

    ১৫ ফেব্রুুয়ারি তাদের দুজনকে ঢাকা থেকে ফরিদপুর জেলে পাঠিয়ে দেয়া হলো। শেখ মুজিব ও মহিউদ্দিন সাহেব ফরিদপুর জেলেই অনশন করলেন। দুই দিন পর অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নিয়ে তাদের জোর করে নল দিয়ে তরল খাবার দেয়া হলো। এদিকে শেখ মুজিবুর রহমানের অনশনের বিষয়টি ২০ ফেব্রুয়ারি তদানীন্তন বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য আনোয়ারা খাতুন মুলতবি প্রস্তাব হিসেবে উত্থাপন করলে মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমীন নির্লজ্জভাবে এর বিরোধিতা করেন।

    ইতোমধ্যে ঢাকায় ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে মাইকে ১৪৪ ধারা জারি করে আগামী এক মাস ঢাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। ঢাকা বেতারেও এ খবর প্রচারিত হয়। এ খবর প্রচারিত হওয়ার পরই সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের নেতবৃন্দ ৯৪ নবাবপুরস্থ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জরুরি সভায় বসেন। সভায় অলি আহাদ ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে যুক্তি দেখালেও কর্মপরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা বিপক্ষে ভোট প্রদান করে। তবে ওই রাতেই ফজলুল হক হলের পুকুরপাড়ে ছাত্রনেতাদের বৈঠকে পরদিন ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ সভায় উপস্থিত ছিলেন গাজীউল হক, হাবিবুর রহমান শেলী, মোহাম্মদ সুলতান, এম আর আখতার মুকুল, জিল্লর রহমান, আব্দুল মমিন, এস এ বারী এটি, সৈয়দ কামরুদ্দিন শহুদ, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। সাধারণ-ছাত্র ও ছাত্রসমাজের বৃহত্তর অংশ ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে ছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারি বেলা ১০টা থেকে ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জমা হতে থাকে।

    বটতলায় দাঁড়িয়ে ছাত্রনেতারা বক্তৃতা দেন। বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মতিন জ্বালাময়ী বক্তৃতায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গের প্রস্তাব দেন। সহস্র কণ্ঠ গর্জে উঠল ১৪৪ ধারা মানব না, মানব না। সিদ্ধান্ত মতে, ১০ জন ১০ জন করে ছাত্র মিছিল করে অ্যাসেম্বলি ভবনের দিকে যেতে থাকে। পুলিশ ছাত্রদের প্রথম দলটিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। ছাত্ররা দলবদ্ধ হয়ে স্লোগান দিয়ে মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল, মেডিক্যাল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ গেট থেকে বের হতেই পুলিশ বাহিনী তাড়া করে, কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।

    বেলা প্রায় সোয়া তিনটার সময় এমএলএ ও মন্ত্রীরা মেডিক্যাল কলেজের সামনে দিয়ে পরিষদ ভবনে আসতে থাকেন। পুলিশ বেপরোয়াভাবে ছাত্রদের ওপর আক্রমণ চালায়। বাধ্য হয়ে ছাত্ররা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পুলিশ ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই রফিকউদ্দিন, আব্দুল জব্বার শহীদ হন এবং আরও ১৭ জন গুরুতর আহত হন। রাতে আবুল বরকত মারা যান।

    গুলি চালানোর সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকাসহ সারা দেশের পরিস্থিতি পালটে যায়। অফিস-আদালত, সেক্রেটারিয়েট ও বেতার কেন্দ্রের কর্মচারীরা অফিস বর্জন করে বেরিয়ে আসেন।

    অ্যাসেম্বলি কক্ষে বিরোধী দলের সদস্যরা মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমীনের কাছে ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর কৈফিয়ত দাবি করেন। মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ বলেন, ‘যখন আমাদের বক্ষের মানিক, আমাদের রাষ্ট্রের ভাবী নেতা ৬ জন ছাত্র রক্তশয্যায় শায়িত, তখন আমরা আরামে পাখার নিচে বসে হাওয়া খেতে থাকব তা আমি বরদাশত করব না।’ তিনিসহ আরও কজন সদস্য পরিষদ বর্জন করে বেরিয়ে আসেন এবং ছাত্রদের কাছে এসে মাইকে বক্তৃতা করেন।

    পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি সকালে মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রাবাস প্রাঙ্গণে গায়েবি জানাজায় লাখো মানুষের সমাবেশ ঘটে। শহরে সেনাবাহিনী তলব করা হয়। জানাজা শেষে শোভাযাত্রা বের হলে হাইকোর্টের সামনে পুনরায় গুলিবর্ষণে বেশ কজন হতাহত হন। ওই দিন বংশাল রোডে সরকারসমর্থক দৈনিক সংবাদ অফিসে জনতা হামলা চালায়। সেখানে পুলিশের গুলিতে আবদুস সালাম নিহত হন। নওয়াবপুরে পুলিশের গুলিতে মারা যান হাইকোর্টের কর্মচারী শফিউর রহমান। ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি ঠিক কতজন ছাত্র-যুবক পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুলিতে আহত ও নিহত হয়েছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান এখনও অজ্ঞাত।

    ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে শেখ মুজিব জেলে বসে ঢাকায় ছাত্রদের ওপর গুলির খবর পেলেন। ফরিদপুরেও হরতাল হয়েছে। ছাত্ররা শোভাযাত্রা করে জেলগেটে এসে বিভিন্ন স্লোগান দেন-‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’, ‘রাজবন্দিদের মুক্তি চাই’, ‘শেখ মুজিবের মুক্তি চাই’।

    বঙ্গবন্ধু তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে লেখেন, ‘মুসলিম লীগ সরকার কত বড় অপরিণামদর্শিতার কাজ করল। মাতৃভাষা আন্দোলনে পৃথিবীতে এই প্রথম বাঙ্গালীরাই রক্ত দিল। দুনিয়ার কোথাও ভাষা আন্দোলন করার জন্য গুলি করে হত্যা করা হয় নাই। … আমি ভাবলাম, দেখব কি না জানি না, তবে রক্ত যখন আমাদের ছেলেরা দিয়েছে তখন বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা না করে উপায় নাই।’

    অবশেষে ২৭ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে মুক্তির ঘোষণা দিয়ে অনশন ভঙ্গ করানো হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর পিতা শেখ লুৎফুর রহমান তাকে নিয়ে যেতে জেলগেটে আসেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্মিত হয় শহীদ মিনার। ২১ ফেব্রুয়ারির শহীদদের স্মরণে রচিত হয় কবিতা, গান। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পূর্ব বাংলায় যে স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি রচিত হয়, তার পথ ধরেই চলতে থাকে পরবর্তী আন্দোলন, সংগ্রাম যা ১৯৭১ সালে মুক্তির সংগ্রামে পূর্ণতা লাভ করে।

    ওপরের দীর্ঘ আলোচনায় প্রতিভাত হয় যে ভাষা আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু এর নেতৃত্ব দেন, কিন্তু ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি রাজবন্দি হিসেবে জেলে থাকায় অনেকের মতে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল না। কিন্তু এ কথা ঠিক নয়। তিনি জেলে বসেই আন্দোলনের নানা বিষয়ে পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়েছেন, যা আন্দোলনের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ভাষাসৈনিক তাদের বক্তব্য ও লেখালেখিতে উল্লেখ করেছেন।

    একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম বার্ষিকীতে ১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে প্রভাতফেরি বের করা হয়, কালো পতাকা বহন করা হয়, ঢাকা শহর প্রদক্ষিণ করা হয়। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন শেখ মুজিবুর রহমান। এভাবে একুশের চেতনার ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু পরবর্তী আন্দোলনগুলোতেও নেতৃত্ব দেন।

    ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। ১৯৭১-এ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু একদল ষড়যন্ত্রকারী রাজনীতিক ও বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হলে দেশের জন্য তার অবদানকে খাটো করে দেখার প্রয়াস লক্ষ করা যায়।

    পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালে জনগণের ভোটে আওয়ামী লীগ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত এবং ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো এবং পরবর্তী সময়ে একনাগাড়ে আরও দুবার ক্ষমতায় এলে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার লেখা, বক্তৃতা-বিবৃতিতে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা জোরালোভাবে তুলে ধরেন। উপরন্তু আওয়ামী লীগ ঘরানার লেখক ও গবেষকদের চেষ্টায় ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা ও নেতৃত্বদানের বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।

    লেখক: এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান।

    আরও পড়ুন

    মেধার অন্ধ অহংকারে অন্যকে অসম্মান করার অদম্য স্পৃহা থেকে বের হয়ে আসুন
    বিভ্রান্তিকর ও স্বার্থপরতার আন্দোলন!
    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিকৃত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা
    ফেনীতে মাদকদ্রব্য অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালিত
    মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিরা পাবে না তো রাজাকারের নাতিরা পাবে?
    মেধা-কোটা বিতর্ক
    গ্রেফতার হলেন ব্যারিস্টার সুমনকে হত্যার হুমকিদাতা
    কোটা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ে আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা জারি