২১শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ |
  • প্রচ্ছদ
  • টপ নিউজ >> দেশজুড়ে >> পরশুরাম >> ফেনী
  • পরশুরামে বিভিন্ন অজুহাতে বন্ধ শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবগুলো
  • পরশুরামে বিভিন্ন অজুহাতে বন্ধ শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবগুলো

    দৈনিক আমার ফেনী

    আবু ইউসুফ মিন্টু
    পরশুরামে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবগুলোতে রয়েছে ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ দুই ধরনের কম্পিউটার। সরকার উপজেলায় প্রায় ১৮টি প্রতিষ্ঠানে ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ দিয়ে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব উদ্বোধন করেন। শিক্ষার্থীদের যুগের সাথে তাল মিলিয়ে কম্পিউটার শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে ল্যাবগুলো সাজালেও দীর্ঘদিন ধরে বেশীর ভাগ প্রতিষ্ঠানের ল্যাব বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই বলছেন তাদের স্কুলের ল্যাবের তালাও খোলা হয় না।
    এদিকে ল্যাব খোলা না থাকলেও স্কুলগুলো আইটিসি বিষয়ে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা নিচ্ছেন। এর মধ্যে তত্ত্বীয় ২৫ ও ব্যবহারিক ৫০ নম্বর থাকে।
    শিক্ষার্থীরা জানান, তারা মুখস্ত করেই পরীক্ষা দিচ্ছেন। ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর শিক্ষকরা দিচ্ছেন তাঁদের মর্জির ওপর। তবে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে বলে জানা যায়।
    অভিযোগ রয়েছে স্কুলের ল্যাবগুলোতে নেই প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত কোন শিক্ষক। আবার শিক্ষক থাকলেও কম্পিউটর নষ্টসহ নানা অজুহাতে উদ্বোধনের পর থেকে মাসের মাসের পর মাস বন্ধ রয়েছে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবগুলো।
    অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ল্যাব ফি আদায় করছেন নিয়মিত। তারপরও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।
    কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কম্পিউটারগুলো ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। কোনোটির মনিটর ভালো আছে, কিন্তু সিপিইউ নষ্ট। কোনোটির কি-বোর্ড কাজ করে না। ল্যাপটপের ব্যাটারি নষ্ট। ইউপিএসের সমস্যা থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে কম্পিউটার চলে না। কিন্তু এগুলো মেরামতেরও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না।
    পরশুরাম উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা সহকারী প্রোগ্রামার মো. ইমরান হোসেন বলেন, প্রশিক্ষক না থাকা, কম্পিউটার নষ্ট হয়ে যাওয়ার অজুহাতসহ নানা অজুহাতে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব খুলেন না। বিষয়টি স্বীকার করে মো ইমরান হোসেন বলেন, প্রশিক্ষণ ক্লাস না হওয়ার বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেছেন।
    উপজেলা আইসিটি অফিস সূত্রে জানা যায়, পরশুরাম কবি শামসুন্নাহার মাহমুদ পাইলট বালিকা বিদ্যালয়, পরশুরাম ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা, খন্ডল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, গুথুমা খান বাহাদুর আবদুল আজিজ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁনগাজী উচ্চ বিদ্যালয়, সুবার বাজার ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসা, কালিকাপুর বাশারত উল্যা উচ্চ বিদ্যালয়, শালধর মোহাম্মদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়, বটতলা ইসলামিয়া সিনিয়র মাদরাসা, রাজসপুর আলী আজম চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, ধনীকুন্ডা আলাউদ্দিন আহেমদ চৌধুরী (নাসিম) দাখিল মাদরাসা, আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম কলেজ, নরনীয়া মুন্সীরখিল পজির উদ্দিন আহেমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়, ধনীকুন্ডা হোসনে আরা উচ্চ বিদ্যালয়, ধনীকুন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলায় ১৮টি প্রতিষ্ঠানে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি ছাড়া বাকীরা ল্যাবের প্রশিক্ষণ ক্লাসও খুলেননা।
    পরশুরাম কবি শামসুন্নাহার মাহমুদ পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহি উদ্দিন জানান তাদের স্মার্ট এলইডি টিভিসহ একাধিক কম্পিউটার নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। তারা নিয়মিত ভাবে ক্লাস নিচ্ছেন। তাদের আইসিটি শিক্ষক কর্মরত রয়েছে।
    ‘সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ও ভাষা প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় ২০১৫ সালের জানয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত প্রথম দফায় ও পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় সারাদেশের ন্যায় পরশুরামের বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব’ স্থাপন করা হয়েছে।
    তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের আওতাধীন পরশুরাম উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা সহকারী প্রোগ্রামার মো. ইমরান হোসেন ২০১৯ সাল ৯ জুন থেকে পরশুরাম উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন। তিনি অত্যন্ত সততা নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে গেলেও শিক্ষকদের অসহযোগিতার কারণে আইসিটি শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
    মো. ইমরান হোসেন বলেন, প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষায় আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি ও শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করা। ডিজিটাল শিক্ষার সম্প্রসারণ ও সহজলভ্যকরণের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের আইসিটিতে দক্ষতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা।
    আইসিটিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরশুরামে হাইস্কুল, কলেজ ও মাদরাসার মধ্যে ১৮টি প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা হয়েছে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব। সরকার ৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত আইসিটি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছেন। এরই অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা ভেদে দেওয়া হয়েছে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী। দ্বিতীয় ধাপে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাগুলোতেও ১৭টি ল্যাপটপ, ১টি করে প্রিন্টার, স্ক্যানার, রাউডার, স্মার্ট এলইডি টিভি, ওয়েব ক্যামেরা, রাউডার, নেটওয়ার্কসুইচ, স্টুডেন্ট টেভিল ১৬টি ও চেয়ার ৩২টি করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে একটি কক্ষকে ল্যাবের উপযোগী করার জন্য প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে সরকারিভাবে ৬৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

    আরও পড়ুন

    মেধার অন্ধ অহংকারে অন্যকে অসম্মান করার অদম্য স্পৃহা থেকে বের হয়ে আসুন
    বিভ্রান্তিকর ও স্বার্থপরতার আন্দোলন!
    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিকৃত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা
    ফেনীতে মাদকদ্রব্য অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালিত
    মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিরা পাবে না তো রাজাকারের নাতিরা পাবে?
    মেধা-কোটা বিতর্ক
    গ্রেফতার হলেন ব্যারিস্টার সুমনকে হত্যার হুমকিদাতা
    কোটা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ে আপিল বিভাগের স্থিতাবস্থা জারি