মোতাহের হোসেন ইমরান
ফেনীর সোনাগাজীতে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে দলবল নিয়ে পরীক্ষার হল পরিদর্শন করেছেন ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। কেন্দ্র পরিদর্শনের ভিডিও সম্প্রচার করা হয় ফেসবুকে লাইভে। এমপির ব্যক্তিগত সহকারী শাহাদাত হোসেন ভূঞা রুমনসহ কয়েকজন সহযোগির আইডি থেকে ভিডিওটি লাইভ করা হলেও এক ঘন্টা পরে রুমনের ফেসবুক আইডি থেকে তা মুছে ফেলা হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে সমালোচনার ঝড়।
নেটিজেনরা জানান, পরীক্ষার হল পরিদর্শনের নীতিমালা অনুযায়ী কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নেওয়াই নিষিদ্ধ। ফেসবুক লাইভ ও দলবল নিয়ে কেন্দ্র পরিদর্শন করাটি অস্বাভাবিক ব্যাপার। পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে পরীক্ষার্থীদের এভাবে ডিস্টার্ব করা উচিত নয় বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করেন।
লাইভ সম্প্রচারে দেখা যায়, প্রায় অর্ধশতাধিক লোকজন নিয়ে মাসুদ চৌধুরী পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন।এসয় তিনি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গেও অনেকক্ষন ধরে কথা বলেন। কথা বলার কারনে অনেক পরীক্ষার্থী লেখা বন্ধ করে বসে থাকেন।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, রোববার সকাল দশটায় এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা শুরু হলে সোনাগাজী মো. ছাবের সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কে›ন্দ্র, বখতারমুন্সী মোয়াজ্জেম হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র ও বখতারমুন্সী ফাযিল মাদরাসার দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে যান এমপি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। পরিদর্শনের সময় এমপি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে ফেনীর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম মো. আব্দুল বাতেন, সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম অনিক চৌধুরীকেও দেখা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কেন্দ্র সচিব বলেন, ‘পরীক্ষার হল থেকে লাইভ তো দূরের কথা, মোবাইল ফোন ব্যবহার করারই সুযোগ নেই।’ পরীক্ষা সংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তি ছাড়া পরীক্ষার হলে প্রবেশ করার কারো এখতিয়ার নেই। একজন এমপি এভাবে দলবল নিয়ে পরীক্ষার হলে আসবে এবং ফেসবুকে লাইভ করবে বিষয়টা বেমানান। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এমপি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন বলেও কয়েকজন অভিযোগ করেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কামরুল হাসান বিব্রত বোধ করেন। তিনি বলেন, কেউ ফেসবুকে লাইভ করেছিল কিনা আমি খেয়াল করিনি। তবে এমপি স্যারকে বলেছিলাম যেন উনি ছাড়া আর কেউ পরীক্ষার হলে না যায়।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর কাছে এ ব্যাপারে কয়েকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




